বাসায় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে ধীরগতির ওয়াই-ফাইয়ের সমস্যায় পড়েন অনেকেই। অনলাইনে অফিসের কাজ, ভিডিও কল, অনলাইন ক্লাস কিংবা সিনেমা দেখা—সব ক্ষেত্রেই ধীরগতির ইন্টারনেট বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমানে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ডিভাইস ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বাড়ির ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের ওপর চাপও বাড়ছে। একই নেটওয়ার্কে একাধিক ডিভাইস যুক্ত থাকা, রাউটারের ভুল অবস্থান কিংবা পুরোনো যন্ত্র ব্যবহারের কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তবে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে ওয়াই-ফাইয়ের সংযোগ ও গতি উন্নত করা সম্ভব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি কার্যকর উপায়। ওয়াই-ফাইয়ের গতি অনেকটাই নির্ভর করে রাউটার কোথায় রাখা হয়েছে তার ওপর। ঘরের এক কোণে কিংবা দেয়াল ও আসবাবপত্রের আড়ালে রাউটার রাখলে সংকেত সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছাতে পারে না। তাই রাউটার ঘরের মাঝামাঝি খোলামেলা ও কিছুটা উঁচু জায়গায় রাখুন। এতে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে ওয়াই-ফাইয়ের সংকেত পৌঁছাতে সুবিধা হবে।
পাশাপাশি মাইক্রোওয়েভ ওভেনসহ সংকেতে বিঘœ ঘটাতে পারে এমন বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে রাউটার দূরে রাখুন। আধুনিক অনেক রাউটারে ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজÑদুই ধরনের ব্র্যান্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট, ভিডিও কল ও অনলাইন গেমিংয়ের জন্য ৫ গিগাহার্টজ ব্র্যান্ড ভালো কাজ করে। অন্যদিকে, রাউটার থেকে দূরে থাকা ডিভাইসের ক্ষেত্রে ২.৪ গিগাহার্টজ ব্র্যান্ড বেশি কার্যকর হতে পারে।
কারণ, এই ব্র্যান্ডের সংকেত তুলনামূলক বেশি দূরত্বে পৌঁছাতে পারে এবং দেয়াল ভেদ করতেও সুবিধা হয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ব্র্যান্ড নির্বাচন করুন। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ চালু থাকার কারণে রাউটারে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে কিংবা সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাউটার বন্ধ করে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন।
এরপর আবার চালু করুন। রাউটার রিবুট করলে অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক সমস্যা দূর হয়ে সংযোগ স্বাভাবিক হতে পারে। একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে অনেক ডিভাইস যুক্ত থাকলে নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে একাধিক ডিভাইসে ভিডিও স্ট্রিমিং, বড় ফাইল ডাউনলোড কিংবা অনলাইন গেমিং চললে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই রাউটারের অ্যাপ বা সেটিংসে গিয়ে সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করুন।
যেসব ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন। এতে নেটওয়ার্কের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে পুরোনো রাউটারের কার্যক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বর্তমান চাহিদার তুলনায় কম হতে পারে। ফলে ভালো ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করেও প্রত্যাশিত গতি পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির রাউটার ব্যবহার করলে সংযোগের মান উন্নত হতে পারে।
তবে নতুন রাউটার কেনার আগে ইন্টারনেট সংযোগের গতি, বাড়ির আয়তন এবং ব্যবহৃত ডিভাইসের সংখ্যা বিবেচনা করা জরুরি। এসব পদক্ষেপ অনুসরণের পরও ওয়াই-ফাইয়ের গতি স্বাভাবিক না হলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনার সংযোগে কোনো কারিগরি সমস্যা রয়েছে কি না, নির্ধারিত গতির ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করতে বলুন।
প্রয়োজনে রাউটার ও নেটওয়ার্কের সংকেতও পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন। সামান্য সচেতনতা ও কিছু সহজ পরিবর্তনেই বাসার ওয়াই-ফাই সংযোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব।





















