5:04 pm, Thursday, 1 October 2026

নজরুলের চেতনায় আবৃত্তি সংগঠন কাব্য কুহুকের ‘দুয়ার ভাঙা গান’

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নজরুল মানেই দ্রোহের দীপ্তি, প্রেমের আবেশ আর শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য আহ্বান। সেই চিরজাগরূক কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নতুন আঙ্গিকে, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে এবং শিল্পের ভিন্নতর বিন্যাসে স্মরণ করল আবৃত্তি সংগঠন কাব্য কুহুক।

‘সৃষ্টি সুখের উল্লাস’ স্লোগানকে ধারণ করে নজরুল বর্ষ ও জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘Tribute to Nazrul—দুয়ার ভাঙা গান’। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি মিলনায়তনে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় কবিতার শব্দ, সুর ও অনুভবের এক ব্যতিক্রমী মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে নজরুলের কবিতা ও আবৃত্তিকে উপস্থাপন করা হয় ভিন্ন এক নান্দনিক আঙ্গিকে। পরিবেশনার প্রতিটি পরতে ফুটে ওঠে কবির বিদ্রোহ, মানবতা, প্রেম ও সাম্যের চেতনা। কবিতাকে কত বিচিত্র ও সৃজনশীলভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরা যায়, ‘দুয়ার ভাঙা গান’ ছিল তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী আবৃত্তিশিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিতে যোগ করে বিশেষ মাত্রা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। শিশুদের পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে নজরুলের কবিতা ও চেতনার উচ্চারণ আগামী দিনের সাংস্কৃতিক পথকে আরও সমৃদ্ধ করবে। অনুষ্ঠানের পরিচালক ফারহানা তৃনা বলেন, শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের সুন্দর সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত নির্মিত হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। কাব্য কুহুকের ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাস’ স্লোগানটি পুরো আয়োজনজুড়েই প্রাণের অনুরণন হয়ে ধ্বনিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নজরুল বিশেষজ্ঞ ও ‘বাঁশরী’র কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। নজরুল চর্চা কেন্দ্র ‘বাঁশরী’র শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করে আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ ও আবেগঘন করে তোলেন।

নজরুল বর্ষে কবির সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াসে আবৃত্তি, সংগীত ও সম্মিলিত শিল্পচর্চা একসূত্রে মিলিত হয়। অনুষ্ঠানে কাব্য কুহুকের পরিচালক ফারহানা তৃনাসহ টিটু মুন্সি, মেহেদী হাসান, মাহমুদা আক্তার, মাহমুদুল হাসান, আলী আহমেদসহ আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীরা কবির বিভিন্ন কবিতা পরিবেশন করেন। সবশেষে শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় সন্ধ্যাটি পরিণত হয় জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনবদ্য নিবেদনে।

আয়োজকদের মতে, ‘দুয়ার ভাঙা গান’ শুধু একটি আবৃত্তি সন্ধ্যা নয়; এটি নজরুলের চিরজাগরূক সৃষ্টিসত্তা, মানবিক দর্শন ও সাম্যের চেতনার প্রতি নতুন প্রজন্মের এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য। কবিকে নতুন ভাষায়, নতুন বিন্যাসে এবং নতুন প্রজন্মের প্রাণস্পন্দনে স্মরণ করার এই আয়োজন দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী আবেশ তৈরি করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

শিবালয়ে ইয়াবাসহ সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

নজরুলের চেতনায় আবৃত্তি সংগঠন কাব্য কুহুকের ‘দুয়ার ভাঙা গান’

Update Time : 09:51:49 pm, Saturday, 22 August 2026

নজরুল মানেই দ্রোহের দীপ্তি, প্রেমের আবেশ আর শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য আহ্বান। সেই চিরজাগরূক কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নতুন আঙ্গিকে, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে এবং শিল্পের ভিন্নতর বিন্যাসে স্মরণ করল আবৃত্তি সংগঠন কাব্য কুহুক।

‘সৃষ্টি সুখের উল্লাস’ স্লোগানকে ধারণ করে নজরুল বর্ষ ও জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘Tribute to Nazrul—দুয়ার ভাঙা গান’। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি মিলনায়তনে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় কবিতার শব্দ, সুর ও অনুভবের এক ব্যতিক্রমী মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে নজরুলের কবিতা ও আবৃত্তিকে উপস্থাপন করা হয় ভিন্ন এক নান্দনিক আঙ্গিকে। পরিবেশনার প্রতিটি পরতে ফুটে ওঠে কবির বিদ্রোহ, মানবতা, প্রেম ও সাম্যের চেতনা। কবিতাকে কত বিচিত্র ও সৃজনশীলভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরা যায়, ‘দুয়ার ভাঙা গান’ ছিল তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী আবৃত্তিশিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিতে যোগ করে বিশেষ মাত্রা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। শিশুদের পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে নজরুলের কবিতা ও চেতনার উচ্চারণ আগামী দিনের সাংস্কৃতিক পথকে আরও সমৃদ্ধ করবে। অনুষ্ঠানের পরিচালক ফারহানা তৃনা বলেন, শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের সুন্দর সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত নির্মিত হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। কাব্য কুহুকের ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাস’ স্লোগানটি পুরো আয়োজনজুড়েই প্রাণের অনুরণন হয়ে ধ্বনিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নজরুল বিশেষজ্ঞ ও ‘বাঁশরী’র কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। নজরুল চর্চা কেন্দ্র ‘বাঁশরী’র শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করে আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ ও আবেগঘন করে তোলেন।

নজরুল বর্ষে কবির সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াসে আবৃত্তি, সংগীত ও সম্মিলিত শিল্পচর্চা একসূত্রে মিলিত হয়। অনুষ্ঠানে কাব্য কুহুকের পরিচালক ফারহানা তৃনাসহ টিটু মুন্সি, মেহেদী হাসান, মাহমুদা আক্তার, মাহমুদুল হাসান, আলী আহমেদসহ আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীরা কবির বিভিন্ন কবিতা পরিবেশন করেন। সবশেষে শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় সন্ধ্যাটি পরিণত হয় জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনবদ্য নিবেদনে।

আয়োজকদের মতে, ‘দুয়ার ভাঙা গান’ শুধু একটি আবৃত্তি সন্ধ্যা নয়; এটি নজরুলের চিরজাগরূক সৃষ্টিসত্তা, মানবিক দর্শন ও সাম্যের চেতনার প্রতি নতুন প্রজন্মের এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য। কবিকে নতুন ভাষায়, নতুন বিন্যাসে এবং নতুন প্রজন্মের প্রাণস্পন্দনে স্মরণ করার এই আয়োজন দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী আবেশ তৈরি করে।