টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে টিকা ও টিকাদান সামগ্রী পরিবহনের জন্য ইউনিসেফের একটি বিশেষায়িত গাড়ি বুঝে নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নগরের হোটেল পেনিনসুলার সামনে ইউনিসেফের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটি মেয়রের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ শিশুর জীবন রক্ষা করছে এবং প্রায় ৫০ লাখ শিশুকে টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার শিশু টিকাদানের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাচ্ছে। নগরে এইচপিভি টিকাদানের বর্তমান আওতা প্রায় ৭৩ শতাংশ।
জাতীয়ভাবে অক্টোবরের মধ্যে ৮০ শতাংশ টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্যের কাছাকাছি রয়েছে এ অগ্রগতি। সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চসিকের প্রায় ৮৮ শতাংশ শিশুর ডিজিটাল টিকাদান তথ্য অনুসরণ ব্যবস্থায় নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। জন্মনিবন্ধন নম্বর যাচাইয়ের মাধ্যমে টিকাদান তথ্য অনুসরণ ও নিবন্ধন সম্পন্ন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড তৈরি হয়।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ টিকাদান নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চিহ্নিত অকার্যকর বা ভুল টিকাদানের মাত্রা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিবন্ধন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ভুল বা অকার্যকর টিকাদানের ঘটনা কমানো এবং টিকাদানের তথ্যের মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চসিকের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ৪৪০ জন টিকাদান কর্মীর বিপরীতে বর্তমানে ১২৫ জন কর্মরত রয়েছেন। ফলে আরও ৩১৫ জন টিকাদান কর্মী নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে দুজন করে ৮২ জন তদারককারী প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত নিয়োগ করা গেলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে টিকাদানের আওতা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
চসিক মেয়র বলেন, চসিকের নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, এইচপিভি টিকাদান এবং ডিজিটাল টিকাদান তথ্য অনুসরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে নগরের শিশু, কিশোরী ও নারীদের শতভাগ টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। টিকাদান কার্যক্রম শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; প্রতিটি যোগ্য শিশু ও নারীর কাছে টিকা পৌঁছে দিতে হবে।
কোনো শিশু যেন টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই টিকাদান কার্যক্রমকে শতভাগ সফল করতে হবে। তিনি বলেন, চসিকের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি কিশোরীদের জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকাদান এবং নারীদের ধনুষ্টংকার-ডিপথেরিয়া প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রমও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে এইচপিভি টিকাদানের ক্ষেত্রে বর্তমান অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে চলতি বছরের মধ্যে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জন্মনিবন্ধন নম্বর যাচাইয়ের মাধ্যমে শিশুদের নিবন্ধন ও টিকাদান তথ্য অনুসরণ নিশ্চিত করে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড তৈরির উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগরের শিশু, কিশোরী ও নারীদের শতভাগ ডিজিটাল টিকাদান তথ্য অনুসরণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য চসিক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বী, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান ও চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালাই আহমদজাই। এ ছাড়া ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ডা. রিয়াদ মাহমুদ, চট্টগ্রাম বিভাগের মাঠ কার্যালয়ের প্রধান মাধুরী ব্যানার্জী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারহানা রহমান ও ডা. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ, ডিজিটাল নিবন্ধন ও টিকাদান তথ্য অনুসরণ সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে চসিকের টিকাদানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, ইউনিসেফ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




















