4:47 am, Monday, 5 October 2026

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার হুঁশিয়ারি জেলেনস্কির

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাশিয়া ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা বাড়ালে দেশটির তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র : রয়টার্স। জেলেনস্কির দাবি, শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের বিস্তৃত বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার অনুমতি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন নতুন নীতি নিয়েছেন। ইউক্রেনের গোয়েন্দারা এ-সংক্রান্ত নথি পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব হামলার লক্ষ্য, কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে তাদের সরে যেতে বাধ্য করা।

জেলেনস্কি আরও বলেন, পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী চাপের মুখে পড়েছে এবং তাদের হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুতিন হামলার কৌশল বদলেছেন বলে মনে করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাবে মস্কো।

দুই দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দনবাসে ১৪০ বর্গকিলোমিটার পুনর্দখলের দাবি : জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ‘ভিভালদি’ নামে পরিচালিত পাল্টা অভিযানে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের প্রায় ১৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলছে। দনবাসের পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকে রাশিয়া সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত মাসে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা না চালানোর আহ্বান জানান। তার দাবি, এসব হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বাড়ছে। তবে জেলেনস্কি বলেছেন, শান্তি আলোচনা কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

গত এক সপ্তাহে কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। দিনিপ্রো নদীর সেতুগুলোতেও প্রথমবারের মতো হামলা হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাব ইউক্রেনও দেবে। বিশেষ করে তেল শোধনাগারসহ যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থ জোগায়Ñ এমন রুশ জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করা হবে।

তবে বেসামরিক স্থাপনায় নির্বিচারে হামলা চালানো হবে না।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

সোনারগাঁর কাঁচপুরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার হুঁশিয়ারি জেলেনস্কির

Update Time : 01:22:27 am, Monday, 5 October 2026

রাশিয়া ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা বাড়ালে দেশটির তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র : রয়টার্স। জেলেনস্কির দাবি, শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের বিস্তৃত বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার অনুমতি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন নতুন নীতি নিয়েছেন। ইউক্রেনের গোয়েন্দারা এ-সংক্রান্ত নথি পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব হামলার লক্ষ্য, কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে তাদের সরে যেতে বাধ্য করা।

জেলেনস্কি আরও বলেন, পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী চাপের মুখে পড়েছে এবং তাদের হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুতিন হামলার কৌশল বদলেছেন বলে মনে করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাবে মস্কো।

দুই দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দনবাসে ১৪০ বর্গকিলোমিটার পুনর্দখলের দাবি : জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ‘ভিভালদি’ নামে পরিচালিত পাল্টা অভিযানে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের প্রায় ১৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলছে। দনবাসের পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকে রাশিয়া সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত মাসে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা না চালানোর আহ্বান জানান। তার দাবি, এসব হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বাড়ছে। তবে জেলেনস্কি বলেছেন, শান্তি আলোচনা কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

গত এক সপ্তাহে কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। দিনিপ্রো নদীর সেতুগুলোতেও প্রথমবারের মতো হামলা হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাব ইউক্রেনও দেবে। বিশেষ করে তেল শোধনাগারসহ যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থ জোগায়Ñ এমন রুশ জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করা হবে।

তবে বেসামরিক স্থাপনায় নির্বিচারে হামলা চালানো হবে না।