11:23 am, Tuesday, 3 November 2026

ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা, উপকূলজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণ

ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা, উপকূলজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে এসব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এমন এক সময়ে হামলার খবর সামনে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ও পরে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না। ’ তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে মার্কিন বাহিনী।

প্রতিবেদনে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা থেকে ইরানকে দূরে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, আনাদোলুর পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

তবে বিস্ফোরণগুলোর উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও কিছু জানায়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চলার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। এদিকে, সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের যোগাযোগ সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন। এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিটির বাস্তবায়ন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ময়মনসিংহে স্ত্রীর সঙ্গে বিবস্ত্র ভিডিও ভাইরাল: জামায়াত নেতার পদ স্থগিত

ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা, উপকূলজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণ

Update Time : 09:11:05 am, Tuesday, 3 November 2026

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে এসব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এমন এক সময়ে হামলার খবর সামনে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ও পরে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না। ’ তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে মার্কিন বাহিনী।

প্রতিবেদনে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা থেকে ইরানকে দূরে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, আনাদোলুর পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

তবে বিস্ফোরণগুলোর উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও কিছু জানায়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চলার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। এদিকে, সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের যোগাযোগ সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন। এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিটির বাস্তবায়ন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।