কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চার সদস্যের সৎকার ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার রাতে তাদের লাশ কুষ্টিয়ার নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী সাংবাদিক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার রাত ১.৩০ মিনিটে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র শর্ণশীষ দত্তের লাশ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সৎকার করা হয়। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা সিম্মিন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা রাত ২.৩০ মিনিটে কুষ্টিয়া শহরের কুঠিপাড়ায় অবস্থিত সদর উপজেলা মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন।
এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় চারজনের লাশ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া বাহাদুর আলী বিশ্বাস সড়কের নিজ বাসায় পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের চিৎকার ও আহাজারিতে উপস্থিত সবাই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। গভীর রাতে মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্রকে সৎকার করা হয়। স্বজনেরা প্রিয় মানুষদের লাশ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
দেবাশীষের শোকে স্তব্ধ সহকর্মী সাংবাদিকদের চোখেমুখেও ছিল শোক ও কান্নার ছাপ। এর আগে শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার একদল সাংবাদিক যশোরের বেনাপোল সীমান্তে সহকর্মীর লাশ গ্রহণ করতে যান। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও সাংবাদিক পরিবারকে শেষবারের মতো দেখতে যান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন-অর রশিদ নিহতদের পরিবারের হাতে সৎকার ও দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে তুলে দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেবাশীষ দত্ত তার স্ত্রী আফসানা সিম্মিন ও শিশুপুত্র শর্ণশীষকে নিয়ে গত ৩ আগস্ট ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান। সেখানে নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিমানযোগে কলকাতায় পৌঁছে রাত্রি যাপনের জন্য মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ওঠেন তারা। পরদিন ১৯ আগস্ট (বুধবার) তাদের কুষ্টিয়ায় ফেরার কথা ছিল।
কিন্তু ১৮ আগস্ট মধ্যরাতে হোটেলটিতে এসি বিস্ফোরণে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা সবাই নিহত হন। নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত চ্যানেল নাইন ও জাতীয় দৈনিক আজকের কাগজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।


















