রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রাতেই একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন–রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা, সদ্য মাস্টার্স পাস করা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্র ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রংপুর নগরীর দাসপাড়ার নির্মাণাধীন এই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রীয়মকে নিয়ে বসবাস করতেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল। অবসর জীবনে নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রীয়মকে। সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়িতে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয়। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বজনেরা বাড়িতে এসে কাউকে না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে গেট ও দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে চিলেকোঠা, ছাদ ও খাটের ওপর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছেলের মুখ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড। সেই সাথে বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



















