সিন্ধু অ্যাকশন কমিটির (এসিএসি) শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের বিভাজন ও দেশে নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনার প্রতিবাদে ওয়াহদাত-ই-সিন্ধু মার্চ কর্মসূচি পালন করেছেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বের হওয়া মিছিলটি পোনাম চক থেকে শুরু হয়ে ওয়াদু ওয়াহ প্রধান ফটকের কাছে হায়দরাবাদ বাইপাসের একটি অংশে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় এসিএসির শরিক দলগুলোর নেতারা সিন্ধু ও জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী বাইপাসটি অবরোধ করে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। সিন্ধু ইউনাইটেড পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রোশন বুরিরো বলেন, সিন্ধিরা কাউকে সিন্ধুকে ‘বিভক্ত’ করতে দেবে না।
যারা এ ধরনের বিভাজনের পরিকল্পনা করছে, তারা সিন্ধু ও পাকিস্তানের শত্রু। তিনি অভিযোগ করেন, পিপিপি, পিএমএল-এনসহ ‘শক্তিশালী শক্তিগুলো’ সিন্ধুর ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। রোশন বুরিরো আরও বলেন, বিতর্কিত জালালপুর খাল চালু করা হয়েছে, অথচ অন্যান্য বিতর্কিত খালগুলো শুধু ‘স্থগিত রাখা হয়েছে’।
মিছিলের অংশগ্রহণকারীরাও সিন্ধুকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রের জন্য পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজকে (পিএমএল-এন) দায়ী করেন। আওয়ামী তেহরিকের সভাপতি ওয়াসান্দ থারি বলেন, নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য সিন্ধুর ভূমি, সম্পদ ও পানি দখল করা। তিনি ‘শিক্ষা নগরী’ প্রকল্পকেও সিন্ধু দখলের একটি পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, পিপিপি সরকার ‘চুক্তির বিনিময়ে’ করাচি থেকে সিন্ধিদের উচ্ছেদ শুরু করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদ নিশ্চিত করতে পিপিপি সিন্ধুর অখণ্ডতার সঙ্গে আপস করছে। সিন্ধু বিভক্তির পরিকল্পনাকারী ‘অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর’ সঙ্গে পিপিপির যোগসাজশ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে মন্তব্য করে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সীমা অতিক্রম করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের ষড়যন্ত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সংবিধানের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান থারি। জিয়ে সিন্ধ মাহাজ (রিয়াজ)-এর চেয়ারম্যান রিয়াজ আলী চান্দিও বলেন, পাকিস্তান পাঞ্জাবের দ্বারা শাসিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর সিন্ধু সৃষ্টি করেছেন এবং কোনো সত্তাই তা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারবে না। ’ সিন্ধিরা শান্তিকামী হলেও প্রদেশটির অখণ্ডতা রক্ষায় তারা প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন তিনি। করপোরেট কৃষির নামে সিন্ধুর ভূমি দখল করা যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। কওমি আওয়ামী তেহরিকের (কিউএটি) মহাসচিব মাজহার রাহুজো বলেন, প্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে শাসকদের ষড়যন্ত্র আসলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র।
তাদের লক্ষ্য ‘একটি নতুন ইসরায়েল তৈরি করা’ বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, সিন্ধুর প্রায় আট কোটি মানুষ এ ধরনের সব ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাঁর অভিযোগ, সিন্ধুর সব সম্পদ দখল করা হয়েছে। জিয়ে সিন্ধ কওমি মাহাজ-বশির (জেএসকিউএম-বি)-এর চেয়ারম্যান ড. নিয়াজ কালানি এই সমাবেশকে সিন্ধুর জনবিন্যাস রক্ষার আন্দোলনের প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, নিজেদের ভূমি ও সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতে লাখো মানুষ রাস্তায় নামবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সিন্ধিরা উর্দুভাষীদের নিজেদের মাতৃভূমির মানুষ হিসেবে গ্রহণ করলে তাদের ভাই হিসেবেই বিবেচনা করবে। ন্যাশনাল পার্টি সিন্ধুর সভাপতি তাজ মারি বলেন, যারা নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের কথা বলছেন, তারা দৃশ্যত দেশ পরিচালনায় আগ্রহী নন। এদিকে কর্মী জামি চান্দিও বলেন, সিন্ধু এমন কোনো সত্তা নয়, যাকে বিভক্ত করা যায়।
সিন্ধুর ঐক্যই এর ভূমি, পানি ও সম্পদ রক্ষার প্রধান শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিন্ধুর পানির শোষণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। সিন্ধুবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় এবং সিন্ধুর জনগণ আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।



















