3:20 pm, Tuesday, 25 August 2026

আগামী ও অদিত করের বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালীন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আগামী ও অদিতের বিয়ের দিন-তারিখ আগে থেকেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। দুই পরিবারে চলছিল অদিত কর আর আগামীর নতুন জীবনের প্রস্তুতি। কিন্তু বিয়ের দিন কয়েক আগেই নির্মম হত্যাকাণ্ডে থেমে গেল আগামী চক্রবর্তীর জীবন।

একই ঘটনায় তার বাবা, মা ও ভাইও প্রাণ হারিয়েছেন। গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চার জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের এক ফেসবুক পেজে আগামী ও অদিতের একটি ছবি দিয়ে তার ওই বার্তা প্রকাশ করা হয়।

সেখানে অদিত কর লেখেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল। ’ এর আগে এক সাক্ষাতে অদিত আগামীকে বলেছিল- ‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। ’ বিয়ের দিন কয়েক আগে নির্মম হত্যাকাণ্ডে অদিত কর তার হবু স্ত্রীকে হারিয়ে এমনই আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অদিত করের এই বার্তা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে স্বজন ও পরিচিতজনদের।

অদিত লেখেন, ‘এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন—‘আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি। ’ চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। ’ স্বজনদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়।

পরে একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার ঘটনা এখন দেশজুড়ে আলোচনায়। গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। শিগগিরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অদিত করের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তারিখ চূড়ান্তও করা হয়।

দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আগামী চক্রবর্তী পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে মারা গেলেন। অদিতের এক বন্ধু জানিয়েছেন, আগামী চক্রবর্তী ও অদিতের বিয়ে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কথাও হচ্ছিল। কিন্তু এমন ঘটনায় অদিত হতবাক। বন্ধু বলেন, অদিত কর হবু স্ত্রীকে হারিয়ে ‘ট্রমাটাইজড’, তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব বুঝতেছি না।

কদিন আগে অদিতের বাবা মারা গেছেন। এখন হবু স্ত্রী মারা গেলেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

আইভরি কোস্টে দুর্ঘটনায় নিহত ৬ শান্তিরক্ষীর ২০তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

আগামী ও অদিত করের বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালীন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড

Update Time : 11:59:46 am, Monday, 24 August 2026

আগামী ও অদিতের বিয়ের দিন-তারিখ আগে থেকেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। দুই পরিবারে চলছিল অদিত কর আর আগামীর নতুন জীবনের প্রস্তুতি। কিন্তু বিয়ের দিন কয়েক আগেই নির্মম হত্যাকাণ্ডে থেমে গেল আগামী চক্রবর্তীর জীবন।

একই ঘটনায় তার বাবা, মা ও ভাইও প্রাণ হারিয়েছেন। গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চার জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের এক ফেসবুক পেজে আগামী ও অদিতের একটি ছবি দিয়ে তার ওই বার্তা প্রকাশ করা হয়।

সেখানে অদিত কর লেখেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল। ’ এর আগে এক সাক্ষাতে অদিত আগামীকে বলেছিল- ‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। ’ বিয়ের দিন কয়েক আগে নির্মম হত্যাকাণ্ডে অদিত কর তার হবু স্ত্রীকে হারিয়ে এমনই আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অদিত করের এই বার্তা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে স্বজন ও পরিচিতজনদের।

অদিত লেখেন, ‘এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন—‘আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি। ’ চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। ’ স্বজনদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়।

পরে একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার ঘটনা এখন দেশজুড়ে আলোচনায়। গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। শিগগিরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অদিত করের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তারিখ চূড়ান্তও করা হয়।

দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আগামী চক্রবর্তী পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে মারা গেলেন। অদিতের এক বন্ধু জানিয়েছেন, আগামী চক্রবর্তী ও অদিতের বিয়ে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কথাও হচ্ছিল। কিন্তু এমন ঘটনায় অদিত হতবাক। বন্ধু বলেন, অদিত কর হবু স্ত্রীকে হারিয়ে ‘ট্রমাটাইজড’, তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব বুঝতেছি না।

কদিন আগে অদিতের বাবা মারা গেছেন। এখন হবু স্ত্রী মারা গেলেন।