2:22 pm, Friday, 6 November 2026

‘বাংলার ভেনিস’ বরিশাল কেন দারিদ্র্যের শীর্ষে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

‘বাংলার ভেনিস’ খ্যাত বরিশালের সমৃদ্ধি কি তবে হারিয়ে গেল? দেশের সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপীড়িত বিভাগ নাকি এখন বরিশাল? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। নতুন পরিসংখ্যান দেখলে আপনিও বলবেন, আসলেই তো ‘ধান, নদী, খাল—এই তিনে বরিশাল’—এই কথার সাথে এখন তো আর বাস্তবতার কোনো মিলই নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে অঞ্চলে ধান আছে, মাছ আছে, নদী আছে, এমনকি গ্যাসও আছে—সেই বরিশাল কেন পিছিয়ে পড়ল? চলুন, পুরো গল্পটা জেনে নেওয়া যাক।

একসময় সমৃদ্ধির প্রতীক, এখন দারিদ্র্যে শীর্ষে

বরিশালের পুরোনো পরিচয়ই ছিল কৃষি ও বাণিজ্য। ‘বাকলা’ নামের অর্থই ছিল শস্য ব্যবসায়ী। নদীপথে দূর-দূরান্তের বণিকরা আসতেন বরিশালের বন্দরে। কৃষি ছিল অর্থনীতির বড় শক্তি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই চিত্র বদলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের আট বিভাগের মধ্যে বরিশালেই দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি—২৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থাৎ, এই বিভাগে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২৭ জনই দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। আর এই দারিদ্র্যের নেপথ্যে রয়েছে একটি বড় সমস্যা—কর্মসংস্থানের অভাব। কাজ নেই, শিল্প নেই, কৃষিতেও আয় কমছে। তাই জীবিকার সন্ধানে মানুষ ছুটছে রাজধানীর দিকে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর তথ্য বলছে, বরিশালের স্থানীয়দের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। আর ঢাকার বস্তিতেও বরিশালের মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বস্তিতে থাকা মানুষের প্রায় ১৩ শতাংশই বরিশালের। অর্থাৎ, ব্যাপারটা শুধু ‘ঢাকায় গিয়ে চাকরি করা’ নয়। বরং অনেকেই এখন অর্থনৈতিকভাবে শুধু টিকে থাকার জন্যই বরিশাল ছাড়ছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সেখানে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না? একটি বড় কারণ—শিল্পায়ন হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলায় কলকারখানা আছে মাত্র ৪০৯টি। আর বিভাগের বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো কলকারখানাই নেই। অর্থাৎ, বিশাল একটি অঞ্চলে কৃষি ও নদীনির্ভর অর্থনীতির বাইরে বিকল্প কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হয়নি।

এখানেই বরিশালের গল্পে আসে সবচেয়ে বড় বিস্ময়। ভোলার মাটির নিচে রয়েছে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে। কিন্তু গ্যাস থাকলেই তো আর শিল্প হয় না। দরকার পাইপলাইন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ এবং পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল। বরিশালের ক্ষেত্রে এই সংযোগটাই দীর্ঘদিন তৈরি হয়নি।

ফলে প্রশ্নটা দাঁড়ায়—সম্পদ ছিল, কিন্তু সেই সম্পদকে অর্থনীতির শক্তিতে পরিণত করা গেল না কেন? স্থানীয়দের অভিযোগ, বরিশাল অঞ্চলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা থাকলেও পুরো দক্ষিণাঞ্চলকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদীনির্ভর যোগাযোগের কারণে পণ্য পরিবহন, শিল্পের কাঁচামাল আনা এবং বাজারে দ্রুত পণ্য পৌঁছানো—এই সবকিছুতেই বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বরিশালের আরেকটি বড় শক্তি ছিল কৃষি। কিন্তু সেই কৃষিও এখন চাপে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশালে আউশ ধানের উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন। এক বছর পর তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টন। পাশাপাশি হ্রাস পেয়েছে আমন ধানের উৎপাদনও।

এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ত পানি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক জমিতে আগের মতো ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

আর শুধু ধানই নয়, বরিশালের অর্থনীতির আরেক প্রতীক ইলিশও কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বিভাগে ইলিশ উৎপাদন ছিল প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টনে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

এখানেই সমস্যার গভীরতা আরও পরিষ্কার হয়। বিবিএসের সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের একজন কৃষকের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা। দেশের আট বিভাগের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন।

অর্থাৎ, যে বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হতো, সেই অঞ্চলের কৃষকের আয় এখন এতটাই কম যে, শুধু কৃষির ওপর নির্ভর করে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষ কাজের জন্য বাইরে যাচ্ছে। আর জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও কর্মসংস্থানের সংকট—সবকিছু মিলে তৈরি হচ্ছে একটি দুষ্টচক্র।

কৃষিখাত দুর্বল হওয়ায় স্থানীয়দের আয় কমেছে। আর শিল্প গড়ে না ওঠায় তৈরি হয়নি কর্মসংস্থান। এ কারণে স্থানীয়রা কাজের খোঁজে বরিশাল ছেড়ে বাইরে যাচ্ছে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাতে। আর এভাবেই সার্বিকভাবে এই অঞ্চল আরও পিছিয়ে পড়েছে।

তবে গল্পের এখানেই শেষ নয়। এ বিভাগে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে সম্ভাবনাও। আছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও। বরিশালের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে এখন বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণ করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। পাশাপাশি পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা পর্যটন, কৃষি, ইলিশ এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্প—এগুলোকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে বদলে যেতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি।

তবে মূল চ্যালেঞ্জ একটাই—পরিকল্পনা কি বাস্তবে রূপ নেবে? কারণ বরিশালের গল্প শুধু দারিদ্র্যের গল্প নয়। এটি এমন একটি অঞ্চলের গল্প, যেখানে সম্পদ আছে, সম্ভাবনা আছে, কিন্তু দীর্ঘদিন সেই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়া যায়নি। একসময় যে বরিশাল ছিল ‘বাংলার ভেনিস’, সেই বরিশাল কি আবার ফিরে পাবে তার হারানো সমৃদ্ধি? উত্তরটা সময়ের জন্যই তোলা রইল।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে হোম ইকোনমিক্স কলেজের শিক্ষার্থীরা

‘বাংলার ভেনিস’ বরিশাল কেন দারিদ্র্যের শীর্ষে

Update Time : 12:15:30 am, Thursday, 17 September 2026

‘বাংলার ভেনিস’ খ্যাত বরিশালের সমৃদ্ধি কি তবে হারিয়ে গেল? দেশের সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপীড়িত বিভাগ নাকি এখন বরিশাল? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। নতুন পরিসংখ্যান দেখলে আপনিও বলবেন, আসলেই তো ‘ধান, নদী, খাল—এই তিনে বরিশাল’—এই কথার সাথে এখন তো আর বাস্তবতার কোনো মিলই নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে অঞ্চলে ধান আছে, মাছ আছে, নদী আছে, এমনকি গ্যাসও আছে—সেই বরিশাল কেন পিছিয়ে পড়ল? চলুন, পুরো গল্পটা জেনে নেওয়া যাক।

একসময় সমৃদ্ধির প্রতীক, এখন দারিদ্র্যে শীর্ষে

বরিশালের পুরোনো পরিচয়ই ছিল কৃষি ও বাণিজ্য। ‘বাকলা’ নামের অর্থই ছিল শস্য ব্যবসায়ী। নদীপথে দূর-দূরান্তের বণিকরা আসতেন বরিশালের বন্দরে। কৃষি ছিল অর্থনীতির বড় শক্তি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই চিত্র বদলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের আট বিভাগের মধ্যে বরিশালেই দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি—২৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থাৎ, এই বিভাগে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২৭ জনই দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। আর এই দারিদ্র্যের নেপথ্যে রয়েছে একটি বড় সমস্যা—কর্মসংস্থানের অভাব। কাজ নেই, শিল্প নেই, কৃষিতেও আয় কমছে। তাই জীবিকার সন্ধানে মানুষ ছুটছে রাজধানীর দিকে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর তথ্য বলছে, বরিশালের স্থানীয়দের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। আর ঢাকার বস্তিতেও বরিশালের মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বস্তিতে থাকা মানুষের প্রায় ১৩ শতাংশই বরিশালের। অর্থাৎ, ব্যাপারটা শুধু ‘ঢাকায় গিয়ে চাকরি করা’ নয়। বরং অনেকেই এখন অর্থনৈতিকভাবে শুধু টিকে থাকার জন্যই বরিশাল ছাড়ছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সেখানে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না? একটি বড় কারণ—শিল্পায়ন হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলায় কলকারখানা আছে মাত্র ৪০৯টি। আর বিভাগের বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো কলকারখানাই নেই। অর্থাৎ, বিশাল একটি অঞ্চলে কৃষি ও নদীনির্ভর অর্থনীতির বাইরে বিকল্প কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হয়নি।

এখানেই বরিশালের গল্পে আসে সবচেয়ে বড় বিস্ময়। ভোলার মাটির নিচে রয়েছে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে। কিন্তু গ্যাস থাকলেই তো আর শিল্প হয় না। দরকার পাইপলাইন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ এবং পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল। বরিশালের ক্ষেত্রে এই সংযোগটাই দীর্ঘদিন তৈরি হয়নি।

ফলে প্রশ্নটা দাঁড়ায়—সম্পদ ছিল, কিন্তু সেই সম্পদকে অর্থনীতির শক্তিতে পরিণত করা গেল না কেন? স্থানীয়দের অভিযোগ, বরিশাল অঞ্চলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা থাকলেও পুরো দক্ষিণাঞ্চলকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদীনির্ভর যোগাযোগের কারণে পণ্য পরিবহন, শিল্পের কাঁচামাল আনা এবং বাজারে দ্রুত পণ্য পৌঁছানো—এই সবকিছুতেই বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বরিশালের আরেকটি বড় শক্তি ছিল কৃষি। কিন্তু সেই কৃষিও এখন চাপে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশালে আউশ ধানের উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন। এক বছর পর তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টন। পাশাপাশি হ্রাস পেয়েছে আমন ধানের উৎপাদনও।

এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ত পানি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক জমিতে আগের মতো ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

আর শুধু ধানই নয়, বরিশালের অর্থনীতির আরেক প্রতীক ইলিশও কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বিভাগে ইলিশ উৎপাদন ছিল প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টনে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

এখানেই সমস্যার গভীরতা আরও পরিষ্কার হয়। বিবিএসের সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের একজন কৃষকের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা। দেশের আট বিভাগের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন।

অর্থাৎ, যে বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হতো, সেই অঞ্চলের কৃষকের আয় এখন এতটাই কম যে, শুধু কৃষির ওপর নির্ভর করে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষ কাজের জন্য বাইরে যাচ্ছে। আর জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও কর্মসংস্থানের সংকট—সবকিছু মিলে তৈরি হচ্ছে একটি দুষ্টচক্র।

কৃষিখাত দুর্বল হওয়ায় স্থানীয়দের আয় কমেছে। আর শিল্প গড়ে না ওঠায় তৈরি হয়নি কর্মসংস্থান। এ কারণে স্থানীয়রা কাজের খোঁজে বরিশাল ছেড়ে বাইরে যাচ্ছে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাতে। আর এভাবেই সার্বিকভাবে এই অঞ্চল আরও পিছিয়ে পড়েছে।

তবে গল্পের এখানেই শেষ নয়। এ বিভাগে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে সম্ভাবনাও। আছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও। বরিশালের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে এখন বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণ করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। পাশাপাশি পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা পর্যটন, কৃষি, ইলিশ এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্প—এগুলোকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে বদলে যেতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি।

তবে মূল চ্যালেঞ্জ একটাই—পরিকল্পনা কি বাস্তবে রূপ নেবে? কারণ বরিশালের গল্প শুধু দারিদ্র্যের গল্প নয়। এটি এমন একটি অঞ্চলের গল্প, যেখানে সম্পদ আছে, সম্ভাবনা আছে, কিন্তু দীর্ঘদিন সেই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়া যায়নি। একসময় যে বরিশাল ছিল ‘বাংলার ভেনিস’, সেই বরিশাল কি আবার ফিরে পাবে তার হারানো সমৃদ্ধি? উত্তরটা সময়ের জন্যই তোলা রইল।