12:31 pm, Friday, 9 October 2026

ইসলামে প্রবেশ নিয়ে কটাক্ষ করে অনেকে কষ্ট দিয়েছেন: সামান্তা শারমিন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, মুসলিম হিসেবে আমাদের কী করণীয়, তা জনপ্রিয়তানির্ভর ওয়াজ থেকে হয়তো জানা সম্ভব নয়। এ কারণে অল্প হলেও নিজের ইসলামি জ্ঞান সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা উচিত।

আল্লাহ চাইলে এবং নিয়ত সঠিক থাকলে কম পরিশ্রমেও বেশি বরকত পাওয়া সম্ভব। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, তিনি সময়োপযোগী একটি বয়ান শুনেছেন। আরবি ভাষা না জানা এবং আগে মাদ্রাসা বা অন্য কোনো ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা তার জন্য বেশ কঠিন।

বয়সের কারণেও বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি আরও লেখেন, পডকাস্টের শুরুতে এবং একেবারে শেষের দিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তাই তার মনে হয়েছে, এটি আবার শোনা এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত। ইসলামে তার সচেতনভাবে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করে অনেকে তাকে গভীরভাবে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ইসলাম ও ইসলাম পালনকারীদের প্রতি এত বিদ্বেষ কেন, তা তার কৌতূহলের বিষয়।

এ নিয়ে আড়ালে নানা কথা হলেও কাউকে সরাসরি মুখোমুখি হয়ে কথা বলতে দেখেননি তিনি। ফলে বিষয়টি তার কাছে কৌতূহলের জায়গাতেই রয়ে গেছে। সামান্তা শারমিনের মতে, সামাজিক চাপের কারণে ইসলাম ও এর জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক অবস্থান নেওয়া কিংবা এ বিষয়ে আলোচনা কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ, সামাজিক চাপের অনেকটাই বানোয়াট ও মনগড়া।

বরং এখনই সময় মুসলিম হিসেবে শৈশবে পড়া ধর্মশিক্ষার বই কিংবা সহজলভ্য সাধারণ কোনো বইয়ের বক্তব্যকে সরাসরি আল্লাহ ও তার নবী-রাসুলদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন না করে ইসলামের জ্ঞান অর্জনের জন্য দীর্ঘ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া। ডানপন্থী বা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইসলামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং শত বছরের জ্ঞানচর্চার প্রচেষ্টাকে তির্যকভাবে দেখা উচিত নয়।

তিনি লেখেন, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ করে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতা ইসলামের নয়; বরং রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রতি বছর আয়োজিত ইসলামি বইমেলার কথা উল্লেখ করেন। মুসলিম হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই তিনি সেখানে নতুন বইয়ের সন্ধানে যান। কিন্তু কোনো বছরই উল্লেখযোগ্য কিছু পাননি, এবারও পাননি।

অথচ সারা বিশ্বে মুসলিম ও অমুসলিম গবেষকেরা ইসলাম নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করছেন। সেসব বইয়ের সামান্য অংশও সেখানে পাওয়া যায় না। উল্টো ১০ বছর আগের বই বিক্রি হচ্ছে। ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকেও নতুন জ্ঞান পাওয়ার সুযোগ নেই। সামান্তা শারমিন আরও বলেন, কয়েকজন রাজনীতিবিদকে ইসলামি বইমেলার বইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখেছেন তিনি। তার মতে, নিজেদের ইসলামপন্থী হিসেবে তুলে ধরার জন্যই তারা এমন প্রশংসা করছেন, জ্ঞান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়।

এর পাশাপাশি একটি ভোটব্যাংককে সন্তুষ্ট রাখার বিষয়টিও এর পেছনে কারণ হতে পারে। তিনি লেখেন, রাজনীতিবিদদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামের কোনো উপকারে আসে না। বরং তাদের এই মনোযোগ কাজে লাগিয়ে ইসলামি বইয়ের জগতে বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে রয়েছে, তা তুলে ধরা যেত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের মতো যারা পাশ্চাত্যের ‘আধুনিক’ শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করেছেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও কঠিন।

কারণ, কোনো চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যাংকার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যখন বলেন, ‘আমি কোরআন পড়িনি, কিন্তু এত বয়সে কিছু বিষয় তো জানি’, তখন ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ মন্তব্য করার মতো আত্মবিশ্বাস তাদের মতো দুর্বল জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের মধ্যে থাকে না। অথচ এমন ভূমিকার পর ওই ব্যক্তিই ইসলাম সম্পর্কে অত্যন্ত অযৌক্তিক ও ঢালাও মন্তব্য করে বসেন।

উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, তাকে একাধিকবার এমন কথা শুনতে হয়েছে যে, ইসলামে স্ত্রী পুরুষের দাস। পোস্টের শেষে সামান্তা শারমিন দোয়া করেন, আল্লাহ যেন মুসলিম উম্মাহকে আত্মবিশ্বাসী রাখেন এবং সিরাতুল মুস্তাকিমে চলার তৌফিক দেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

রাজধানীর ভাটারায় বহুতল ভবন থেকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ইসলামে প্রবেশ নিয়ে কটাক্ষ করে অনেকে কষ্ট দিয়েছেন: সামান্তা শারমিন

Update Time : 11:28:37 am, Friday, 9 October 2026

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, মুসলিম হিসেবে আমাদের কী করণীয়, তা জনপ্রিয়তানির্ভর ওয়াজ থেকে হয়তো জানা সম্ভব নয়। এ কারণে অল্প হলেও নিজের ইসলামি জ্ঞান সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা উচিত।

আল্লাহ চাইলে এবং নিয়ত সঠিক থাকলে কম পরিশ্রমেও বেশি বরকত পাওয়া সম্ভব। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, তিনি সময়োপযোগী একটি বয়ান শুনেছেন। আরবি ভাষা না জানা এবং আগে মাদ্রাসা বা অন্য কোনো ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা তার জন্য বেশ কঠিন।

বয়সের কারণেও বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি আরও লেখেন, পডকাস্টের শুরুতে এবং একেবারে শেষের দিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তাই তার মনে হয়েছে, এটি আবার শোনা এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত। ইসলামে তার সচেতনভাবে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করে অনেকে তাকে গভীরভাবে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ইসলাম ও ইসলাম পালনকারীদের প্রতি এত বিদ্বেষ কেন, তা তার কৌতূহলের বিষয়।

এ নিয়ে আড়ালে নানা কথা হলেও কাউকে সরাসরি মুখোমুখি হয়ে কথা বলতে দেখেননি তিনি। ফলে বিষয়টি তার কাছে কৌতূহলের জায়গাতেই রয়ে গেছে। সামান্তা শারমিনের মতে, সামাজিক চাপের কারণে ইসলাম ও এর জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক অবস্থান নেওয়া কিংবা এ বিষয়ে আলোচনা কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ, সামাজিক চাপের অনেকটাই বানোয়াট ও মনগড়া।

বরং এখনই সময় মুসলিম হিসেবে শৈশবে পড়া ধর্মশিক্ষার বই কিংবা সহজলভ্য সাধারণ কোনো বইয়ের বক্তব্যকে সরাসরি আল্লাহ ও তার নবী-রাসুলদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন না করে ইসলামের জ্ঞান অর্জনের জন্য দীর্ঘ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া। ডানপন্থী বা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইসলামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং শত বছরের জ্ঞানচর্চার প্রচেষ্টাকে তির্যকভাবে দেখা উচিত নয়।

তিনি লেখেন, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ করে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতা ইসলামের নয়; বরং রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রতি বছর আয়োজিত ইসলামি বইমেলার কথা উল্লেখ করেন। মুসলিম হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই তিনি সেখানে নতুন বইয়ের সন্ধানে যান। কিন্তু কোনো বছরই উল্লেখযোগ্য কিছু পাননি, এবারও পাননি।

অথচ সারা বিশ্বে মুসলিম ও অমুসলিম গবেষকেরা ইসলাম নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করছেন। সেসব বইয়ের সামান্য অংশও সেখানে পাওয়া যায় না। উল্টো ১০ বছর আগের বই বিক্রি হচ্ছে। ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকেও নতুন জ্ঞান পাওয়ার সুযোগ নেই। সামান্তা শারমিন আরও বলেন, কয়েকজন রাজনীতিবিদকে ইসলামি বইমেলার বইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখেছেন তিনি। তার মতে, নিজেদের ইসলামপন্থী হিসেবে তুলে ধরার জন্যই তারা এমন প্রশংসা করছেন, জ্ঞান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়।

এর পাশাপাশি একটি ভোটব্যাংককে সন্তুষ্ট রাখার বিষয়টিও এর পেছনে কারণ হতে পারে। তিনি লেখেন, রাজনীতিবিদদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামের কোনো উপকারে আসে না। বরং তাদের এই মনোযোগ কাজে লাগিয়ে ইসলামি বইয়ের জগতে বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে রয়েছে, তা তুলে ধরা যেত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের মতো যারা পাশ্চাত্যের ‘আধুনিক’ শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করেছেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও কঠিন।

কারণ, কোনো চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যাংকার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যখন বলেন, ‘আমি কোরআন পড়িনি, কিন্তু এত বয়সে কিছু বিষয় তো জানি’, তখন ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ মন্তব্য করার মতো আত্মবিশ্বাস তাদের মতো দুর্বল জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের মধ্যে থাকে না। অথচ এমন ভূমিকার পর ওই ব্যক্তিই ইসলাম সম্পর্কে অত্যন্ত অযৌক্তিক ও ঢালাও মন্তব্য করে বসেন।

উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, তাকে একাধিকবার এমন কথা শুনতে হয়েছে যে, ইসলামে স্ত্রী পুরুষের দাস। পোস্টের শেষে সামান্তা শারমিন দোয়া করেন, আল্লাহ যেন মুসলিম উম্মাহকে আত্মবিশ্বাসী রাখেন এবং সিরাতুল মুস্তাকিমে চলার তৌফিক দেন।