3:22 pm, Monday, 2 November 2026

রায়গঞ্জের নিমগাছি হাটের প্রবেশপথে জলাবদ্ধতা, কাদা-পানিতে চরম দুর্ভোগ

রায়গঞ্জের নিমগাছি হাটের প্রবেশপথে জলাবদ্ধতা, কাদা-পানিতে চরম দুর্ভোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিমগাছি হাটের উত্তর অংশের প্রবেশপথের প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থায় জনদুর্ভোগ বাড়লেও কার্যকর সংস্কারের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিমগাছি হাট সোনাখাড়া ইউনিয়নের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এ হাটে রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ কেনাকাটা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আসেন।

প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শত শত রিকশাভ্যান, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চলাচল করে। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে ট্রাকসহ ভারী যানবাহনও চলাচল করে। ফলে সড়কটি স্থানীয় জনসাধারণের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও রিকশাভ্যান চালকদের চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন আটকে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। পথচারীদেরও কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছি হাট এবং ধামাইনগর ইউনিয়নের শালিয়াগাড়ি বাজারের মধ্যে সংযোগ সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ সড়ক দিয়ে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে হাটের দিন মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামিম হোসেন বলেন, নিমগাছি হাট একটি ঐতিহ্যবাহী ও বড় হাট। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন।

কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাটে আসা-যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদা-পানিতে ভরে যায়। এ সড়ক পার হতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই খারাপ যে, স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।

বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। এ বিষয়ে সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার সরকার বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সড়কটি মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, নিমগাছি হাটের প্রবেশমুখের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। এতে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ প্রবল রূপ নিয়ে আজ রাতে অন্ধ্র প্রদেশে আঘাত হানতে পারে

রায়গঞ্জের নিমগাছি হাটের প্রবেশপথে জলাবদ্ধতা, কাদা-পানিতে চরম দুর্ভোগ

Update Time : 02:31:06 pm, Monday, 2 November 2026

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিমগাছি হাটের উত্তর অংশের প্রবেশপথের প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থায় জনদুর্ভোগ বাড়লেও কার্যকর সংস্কারের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিমগাছি হাট সোনাখাড়া ইউনিয়নের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এ হাটে রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ কেনাকাটা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আসেন।

প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শত শত রিকশাভ্যান, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চলাচল করে। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে ট্রাকসহ ভারী যানবাহনও চলাচল করে। ফলে সড়কটি স্থানীয় জনসাধারণের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও রিকশাভ্যান চালকদের চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন আটকে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। পথচারীদেরও কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছি হাট এবং ধামাইনগর ইউনিয়নের শালিয়াগাড়ি বাজারের মধ্যে সংযোগ সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ সড়ক দিয়ে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে হাটের দিন মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামিম হোসেন বলেন, নিমগাছি হাট একটি ঐতিহ্যবাহী ও বড় হাট। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন।

কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাটে আসা-যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদা-পানিতে ভরে যায়। এ সড়ক পার হতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই খারাপ যে, স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।

বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। এ বিষয়ে সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার সরকার বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সড়কটি মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, নিমগাছি হাটের প্রবেশমুখের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। এতে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা।