নরসিংদীতে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা মো. হালিম মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নরসিংদী মডেল থানা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃত হালিম মিয়া নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দী গ্রামের সিরু মিয়ার ছেলে।
সে পেশায় মিশুচালক। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানায়, হালিম দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীরও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকেন। এ সুযোগে বাবা হালিম তার ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন। ধর্ষণের পর ঘটনার ভিডিও নিজ মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হালিম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মামা ৪ সেপ্টেম্বর নরসিংদী মডেল থানায় বাদী হয়ে ঘাতক বাবা হালিম মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তারে নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালিয়েও পাওয়া যায়নি।
পরে ১৪ সেপ্টেম্বর গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে সে সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থান করছে। সেখানে দ্বিতীয় দফা অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ তার অবস্থান চট্টগ্রামে সনাক্ত করে। পরে হাটহাজারীর মাইজভান্ডার দরবার শরীফ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, হালিমকে গ্রেপ্তারে যে অভিযান চালানো হচ্ছে তা জানতে পেরে সে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করত।
সে গ্রেপ্তার এড়াতে ছদ্মবেশও ধরেছিল। কিন্তু অবশেষে আমাদের জালে ধরা পড়ল। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে ও সে এর জন্য অনুতপ্ত। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং নরসিংদী মডেল থানার ওসি এআর এম আল মামুন, ডিবি ওসি আবুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন।





















