ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে জিম্মি করে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে চরআলগী ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল ৪টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শরীফুল ইসলাম ফরাজি সুমনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সায়েম, চরআলগী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সম্পাদক জিল্লুর রহমান মাস্টার, উপজেলা যুব খেলাফত মজলিশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফ, চরআলগী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা গাউসুল আজম বাচ্চু ও রোকুনুজ্জামান রোকনসহ অন্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘটনার পর ওই পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শরীফ মিয়া (২৩), আরিফ মিয়াসহ পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর বাড়িতে যান। তাঁরা প্রথমে পানি ও কুড়াল চান। প্রবাসীর ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় বলে অভিযোগ।
পরে তাঁরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। আলমারিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। এরপর ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাজীব নামে এক যুবক ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।
পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন। রাতেই পুলিশ অভিযান শুরু করে। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে আটক করা হয়। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রাজীব পানিতে ফেলে দেন। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগীর দেবর বলেন, বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর তাঁর ভাবি নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন। দুর্বৃত্তরা তাঁর ভাতিজাকে জিম্মি করে ভাবিকে নির্যাতন করেছে। তাঁরা জড়িতদের উপযুক্ত বিচার চান। পরদিন শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন—তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২), মোফাজ্জলের ছেলে রাজীব (২৩) ও নূরুলের ছেলে এনামুল (২২)।
এদের মধ্যে রাজীবকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















