ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পরিত্যক্ত ঘর থেকে ২০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিষয়টি নিয়ে রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুজিবুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় মহসিন আলী ও সহদেবকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের ফুটানি টাউন বাজারের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ২০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করে পুলিশ।
জব্দ করা সারের মধ্যে সাত বস্তা ইউরিয়া, পাঁচ বস্তা পটাশ, চার বস্তা টিএসপি ও চার বস্তা ডিএপি ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাদের জানানো হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশের একটি দল স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সারগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
জব্দের পর কৃষক মহসিন আলী সারগুলো তাঁর বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, বাবা, ভাই ও নিজের কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় আঁখি ট্রেডার্স ও লাকী ট্রেডার্স থেকে এসব সার সংগ্রহ করেছিলেন। লাকী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আজিজের ছেলে জানান, মহসিন আলী তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে সাত বস্তা সার নিয়েছেন। তবে পরিত্যক্ত ঘর থেকে জব্দ করা সার তাঁদের গোডাউনের নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে আঁখি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আইনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সারগুলো জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো থানা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার পাশাপাশি জব্দ করা সারগুলোর পরবর্তী ব্যবস্থাপনা এবং পরিত্যক্ত ঘরে সার সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।





















