ছাতকে রাতের আঁধারে বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ আনা হচ্ছে। এসব কাঠের অংশ চুনের পাজুতে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে বন বিভাগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে কাঠবাহী গাড়ি সড়কে থামিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তরা হলেন- নৈশপ্রহরী মহসিন মিয়া ও আজিজুর রহমান। অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে গত রোববার রাতে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের এলাকায় অবস্থান করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে চালকদের সঙ্গে বন বিভাগের দুই কর্মীকে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর দুটি কাঠবাহী পিকআপ হাসান চত্বর থেকে দোয়ারাবাজারমুখী সড়কের রেললাইন পার হয়ে অন্ধকার এলাকায় থামানো হয়।
এ সময় চালকদের সঙ্গে বাগবিত-া ও মোবাইল ফোনে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতেও দেখা যায়। পরে গাড়ির চালকদের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করেন, কাঠ পরিবহনের সময় নিয়মিত ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটক, মামলা কিংবা হয়রানির ভয় দেখানো হয়। এবিষয়ে বন বিভাগের ওই দুই কর্মী জানান, গাড়ি ও গাছের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিষয়টি বনবিট কর্মকর্তা কেভিএম ফেরদৌসকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে কাঠবাহী গাড়িগুলো আটক করা হয়। সড়কে গাড়ি থামিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, এভাবে রাস্তায় টাকা আদায় করা অন্যায়। বন বিভাগের কর্মীরা এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। ’ লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাতকের চুনের পাজু এলাকায় গাছের কাঠ ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ ও জ্বালানি কাঠ পরিবহন নিয়ে আগেও বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত হলেও বন্ধ হয়নি এ অনৈতিক কর্মকান্ড। এরপরও রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ ছাতকে আসার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।













