দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের স্পষ্ট বার্তা- অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় নেই।
অপরাধী যেই হোক না কেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি অপরাধে সরকারদলীয় কোনো নেতাকর্মীও যদি জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনের আওতায় আনা।
মাদকদ্রব্য চোরাচালান ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা। রাজধানীসহ সারা দেশে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে সরকারের স্বরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো অপরাধীর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার নিশ্চিত করা। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যেত, যার ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পেত।
বর্তমান সরকারের এই নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থান যদি মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তিনি আরও বলেন, শুধু ঘোষণা দিলেই চলবে না, এর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আমাদের কাছে কোনো অপরাধীর দলীয় পরিচয় বলে কিছু নেই। সে যেই হোক না কেন- রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিংবা দলীয় কর্মী- সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদকের সঙ্গে যারাই যুক্ত থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে।
তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, মাদকের রুটগুলো চিরুনি অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করা হবে এবং চাঁদাবাজদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে। পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, পুলিশ বাহিনী এখন থেকে আরও বেশি সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করছে। মাদক এবং সন্ত্রাস দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, পুলিশ কোনো অপরাধীর সঙ্গে আপস করবে না। সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি না করে সুনির্দিষ্ট অপরাধী, সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিতে। তিনি আরও যোগ করেন, অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি। যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পুলিশকে জানানোর অনুরোধ রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ঢাকা মহানগরীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে ডিএমপি পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, রাজধানীতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং কালচার, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। আমাদের প্রতিটি থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এলাকার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে। পুলিশ বা অন্য কোনো পরিচয়ে কেউ যদি অপরাধের সুরক্ষা দিতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি নগরবাসীকে নির্ভয়ে বসবাস করার আহ্বান জানান এবং যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না।
সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। তা ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধমূলক কাজের ক্ষেত্রে দলের অবস্থান সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র নেতা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট করেছেন যে, দলীয় বা অঙ্গসংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপরাধ, অনৈতিক কাজ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ও তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরাধমূলক কাজের ক্ষেত্রে দলের অবস্থান সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলীয় পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বা অপরাধে লিপ্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণসাপেক্ষে অপরাধীদের দল থেকে অব্যাহতি বা আজীবন বহিষ্কার করা হচ্ছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।


















