12:26 am, Monday, 24 August 2026

ইরানের ওপর ট্রাম্পের আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি করেছে নতুন উত্তেজনা। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের অর্থনীতি দুর্বল করার পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও চাপ প্রয়োগ করতে চাইছে ওয়াশিংটন। তবে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী দেশ ইরানের পাশে থাকায় এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তেহরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া দেশগুলোকেও শাস্তির মুখোমুখি করার হুমকি তার। আর এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ইকোনমিক ডি-ডে।

ট্রাম্পের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের বাণিজ্য, তেল রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে দুর্বল করা। তবে এখানে মূল আলোচনার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই চাপ প্রয়োগ করে কতটুকু সফল হতে পারবে। কারণ এখানে চীন ও রাশিয়াকে দেখা হচ্ছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে।

ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন দীর্ঘদিন ধরে দেশটির তেল কিনে আসছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বেইজিং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে চীনকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমাতে বাধ্য করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

রাশিয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ধরনের বাস্তবতা। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মস্কো ও তেহরান বিকল্প বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেনের ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে সীমিত করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন চাপের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার অনেকাংশে আমিরাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এমন পদক্ষেপ তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক আঘাত হতে পারে।

কিন্তু সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অভিযান ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সক্ষম হলেও দেশটির অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা সহজ হবে না। কারণ চীন, রাশিয়া ও ব্রিকসের মতো বিকল্প অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের বড় সীমাবদ্ধতা হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

নতুন ছাঁট চুলে আরলিং হালান্ডকে দেখে অবাক প্রেমিকা

ইরানের ওপর ট্রাম্পের আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে

Update Time : 10:57:31 pm, Sunday, 23 August 2026

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি করেছে নতুন উত্তেজনা। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের অর্থনীতি দুর্বল করার পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও চাপ প্রয়োগ করতে চাইছে ওয়াশিংটন। তবে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী দেশ ইরানের পাশে থাকায় এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তেহরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া দেশগুলোকেও শাস্তির মুখোমুখি করার হুমকি তার। আর এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ইকোনমিক ডি-ডে।

ট্রাম্পের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের বাণিজ্য, তেল রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে দুর্বল করা। তবে এখানে মূল আলোচনার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই চাপ প্রয়োগ করে কতটুকু সফল হতে পারবে। কারণ এখানে চীন ও রাশিয়াকে দেখা হচ্ছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে।

ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন দীর্ঘদিন ধরে দেশটির তেল কিনে আসছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বেইজিং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে চীনকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমাতে বাধ্য করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

রাশিয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ধরনের বাস্তবতা। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মস্কো ও তেহরান বিকল্প বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেনের ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে সীমিত করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন চাপের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার অনেকাংশে আমিরাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এমন পদক্ষেপ তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক আঘাত হতে পারে।

কিন্তু সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অভিযান ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সক্ষম হলেও দেশটির অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা সহজ হবে না। কারণ চীন, রাশিয়া ও ব্রিকসের মতো বিকল্প অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের বড় সীমাবদ্ধতা হয়ে থাকবে।