10:49 am, Sunday, 30 August 2026

ধুনটে যমুনা পাড়ে দারিদ্র্যের শেকলে বন্দি তিন শতাধিক জেলে পরিবার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর তীরে কিংবা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বসবাস করছে দারিদ্র্যের শেকলে বন্দি তিন শতাধিক জেলে পরিবার। যমুনা নদীকে ঘিরেই তাদের জীবন-জীবিকা আবর্তিত হয়। এরা সবাই সরাসরি মাছ ধরা পেশার সঙ্গে জড়িত। তবে জীবিকার তাগিদে তারা এখন দাদন ব্যবসায়ীদের বিশাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

তাদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকায় জেলেদের নৌকা তৈরি ও জাল কিনতে হয়। বছরের পর বছর দাদন ব্যবসায়ীদের আড়তে মাছ বিক্রি করেন তারা। কিন্তু শোধ হয় না ঋণ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা চলে জেলেদের। কিন্তু মাছ ধরার আগেই অনেকের জীবন আটকে যায় দাদনের জালে। নৌকা, জাল কিংবা সংসারের খরচ মেটাতে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নদীতে নামেন তারা।

পরে মাছ বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে বছরের পর বছর কাটে দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে। নদীতে মাছ কম, অথচ খরচ বেশি। ফলে কাক্সিক্ষত আয় হয় না। একদিকে দাদনের টাকা শোধের চাপ, অন্যদিকে সংসারের নিত্যদিনের খরচ। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তা আর অভাব যেন জেলেদের নিত্যসঙ্গী। এভাবেই দাদনের দুষ্টচক্রে জেলেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রতারিত হন। বঞ্চিত হয় শ্রমের সঠিক মূল্য থেকে।

যমুনাপারের জেলে আশরাফ আলী, বানেশ্বর, নিখিল ও চন্দন হাওয়ালদার বলেন, প্রতিবছরই ভাবেন এবার ঋণমুক্ত হবেন। কিন্তু মৌসুম শেষে হিসাব করলে দেখা যায় সুদই বেড়েছে। সংসারের খরচ, নৌকা ও জালের মেরামত আর নৌকার তেলের জন্য আবারও নতুন করে দাদন নিতে হয়। নদীতে মাছ কম পেলেও ঋণের কিস্তি ঠিকই দিতে হয়। বাজারে ভালো দাম থাকলেও তারা অন্য কোথাও মাছ বিক্রি করতে পারেন না।

দাদন নেওয়ার শর্তেই নির্দিষ্ট আড়তে মাছ দিতে হয়। তাদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দাদনের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন তারা। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও দাদনদাতা আজম আলী, রাজ্জাক ও মন্টু হাওয়ালদার জানান, জেলেদের প্রয়োজনে তারা টাকা দেন। অনেক সময় তারা কয়েক মাস বা এক মৌসুম পর টাকা ফেরত দেন। এতে তাদেরও ঝুঁকি থাকে।

মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ আহম্মেদ বলেন, জেলেরা ঋণ নিতে চাইলে মৎস্য বিভাগ সহযোগিতা করবে। ব্যাংক ঋণের সুযোগ বাড়ানো গেলে দাদনের ওপর নির্ভরতা কমবে ও জেলেরা মাছের ন্যায্যমূল্যও পাবেন। জেলেদের নিরাপত্তাসহ তাদের স্বাবলম্বী করতে মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

শিল্পকে আইনের খাঁচায় বন্দি করা যায় না

ধুনটে যমুনা পাড়ে দারিদ্র্যের শেকলে বন্দি তিন শতাধিক জেলে পরিবার

Update Time : 07:55:38 am, Sunday, 30 August 2026

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর তীরে কিংবা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বসবাস করছে দারিদ্র্যের শেকলে বন্দি তিন শতাধিক জেলে পরিবার। যমুনা নদীকে ঘিরেই তাদের জীবন-জীবিকা আবর্তিত হয়। এরা সবাই সরাসরি মাছ ধরা পেশার সঙ্গে জড়িত। তবে জীবিকার তাগিদে তারা এখন দাদন ব্যবসায়ীদের বিশাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

তাদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকায় জেলেদের নৌকা তৈরি ও জাল কিনতে হয়। বছরের পর বছর দাদন ব্যবসায়ীদের আড়তে মাছ বিক্রি করেন তারা। কিন্তু শোধ হয় না ঋণ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা চলে জেলেদের। কিন্তু মাছ ধরার আগেই অনেকের জীবন আটকে যায় দাদনের জালে। নৌকা, জাল কিংবা সংসারের খরচ মেটাতে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নদীতে নামেন তারা।

পরে মাছ বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে বছরের পর বছর কাটে দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে। নদীতে মাছ কম, অথচ খরচ বেশি। ফলে কাক্সিক্ষত আয় হয় না। একদিকে দাদনের টাকা শোধের চাপ, অন্যদিকে সংসারের নিত্যদিনের খরচ। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তা আর অভাব যেন জেলেদের নিত্যসঙ্গী। এভাবেই দাদনের দুষ্টচক্রে জেলেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রতারিত হন। বঞ্চিত হয় শ্রমের সঠিক মূল্য থেকে।

যমুনাপারের জেলে আশরাফ আলী, বানেশ্বর, নিখিল ও চন্দন হাওয়ালদার বলেন, প্রতিবছরই ভাবেন এবার ঋণমুক্ত হবেন। কিন্তু মৌসুম শেষে হিসাব করলে দেখা যায় সুদই বেড়েছে। সংসারের খরচ, নৌকা ও জালের মেরামত আর নৌকার তেলের জন্য আবারও নতুন করে দাদন নিতে হয়। নদীতে মাছ কম পেলেও ঋণের কিস্তি ঠিকই দিতে হয়। বাজারে ভালো দাম থাকলেও তারা অন্য কোথাও মাছ বিক্রি করতে পারেন না।

দাদন নেওয়ার শর্তেই নির্দিষ্ট আড়তে মাছ দিতে হয়। তাদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দাদনের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন তারা। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও দাদনদাতা আজম আলী, রাজ্জাক ও মন্টু হাওয়ালদার জানান, জেলেদের প্রয়োজনে তারা টাকা দেন। অনেক সময় তারা কয়েক মাস বা এক মৌসুম পর টাকা ফেরত দেন। এতে তাদেরও ঝুঁকি থাকে।

মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ আহম্মেদ বলেন, জেলেরা ঋণ নিতে চাইলে মৎস্য বিভাগ সহযোগিতা করবে। ব্যাংক ঋণের সুযোগ বাড়ানো গেলে দাদনের ওপর নির্ভরতা কমবে ও জেলেরা মাছের ন্যায্যমূল্যও পাবেন। জেলেদের নিরাপত্তাসহ তাদের স্বাবলম্বী করতে মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।