9:08 am, Thursday, 24 September 2026

শেকৃবিতে আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বেগম রোকেয়া হল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) আন্তঃহল বিতর্ক চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (SAUDS) উদ্যোগে এবং ম্যাজেন্ডা (MAGENDA-Mainstreaming Gender Equality in Academia)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল লতিফ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, শেকৃবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে গ্র্যান্ড ফাইনালের বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বেগম রোকেয়া হল ডিবেটিং ক্লাব ও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হল ডিবেটিং ক্লাব মুখোমুখি হয়। বিতর্কের বিষয় ছিল—‘উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসমতা অর্জন ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ’ যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে উভয় দলের বিতার্কিকরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ বিতর্কে বেগম রোকেয়া হল ডিবেটিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশাবুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ওয়াসিউল হাসান সরকার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিতার্কিক ও বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, নেতৃত্বগুণ ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মকে শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, বরং সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিতর্কচর্চার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। পরে বিজয়ী ও রানার্সআপ দল এবং সেরা বিতার্কিকদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, বিতর্ক শুধু প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, সহনশীলতা, নেতৃত্বগুণ এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার মানসিকতা গড়ে তোলে।

উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তার স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া আন্তঃহল বিতর্ক চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মোট আটটি দল অংশ নেয়। মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের স্বনামধন্য বিতার্কিক ও বিচারকরা বিভিন্ন পর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো আফতাবনগর-বনশ্রী ফুট ওভারব্রিজ

শেকৃবিতে আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বেগম রোকেয়া হল

Update Time : 01:04:12 am, Wednesday, 16 September 2026

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) আন্তঃহল বিতর্ক চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (SAUDS) উদ্যোগে এবং ম্যাজেন্ডা (MAGENDA-Mainstreaming Gender Equality in Academia)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল লতিফ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, শেকৃবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে গ্র্যান্ড ফাইনালের বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বেগম রোকেয়া হল ডিবেটিং ক্লাব ও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হল ডিবেটিং ক্লাব মুখোমুখি হয়। বিতর্কের বিষয় ছিল—‘উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসমতা অর্জন ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ’ যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে উভয় দলের বিতার্কিকরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ বিতর্কে বেগম রোকেয়া হল ডিবেটিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশাবুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ওয়াসিউল হাসান সরকার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিতার্কিক ও বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, নেতৃত্বগুণ ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মকে শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, বরং সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিতর্কচর্চার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। পরে বিজয়ী ও রানার্সআপ দল এবং সেরা বিতার্কিকদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, বিতর্ক শুধু প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, সহনশীলতা, নেতৃত্বগুণ এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার মানসিকতা গড়ে তোলে।

উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তার স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া আন্তঃহল বিতর্ক চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মোট আটটি দল অংশ নেয়। মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের স্বনামধন্য বিতার্কিক ও বিচারকরা বিভিন্ন পর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।