কক্সবাজারের পেকুয়ায় বাড়ি নির্মাণ কাজের সময় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে সাংবাদিক পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার শেখের কিল্লা ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহতরা হলেন, একই এলাকার মৃত আমির হোসেনের পুত্র নুর মোহাম্মদ (৫০), তার স্ত্রী কহিনুর আক্তার (৪৫) ও ছেলে মনিরুল মোস্তফা (২৫)।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান, নুর মোহাম্মদ নিজ জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। বাড়ি নির্মাণ শুরু থেকেই নুর মোহাম্মদ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল একই এলাকার মৃত শাহাব উদ্দিনের পুত্র কিশোর গ্যাং সদস্য শফিউল আলম, কোরবান আলীর পুত্র মোহাম্মদ আনিছ। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ওই জায়গা জবরদখলের চেষ্টা চালায়।
চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিনিয়ত তার পরিবারকে হুমকি-ধামকি ও বাড়ি নির্মাণে বাধা দিচ্ছিল। পরে নুর মোহাম্মদ চাঁদা না দিয়ে তার নিজ জায়গার ভেতরেই নিমার্ণ কাজ শুরু করেন। বাড়ি নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে এলে ঘটনার দিন সকালে একই এলাকার মৃত শাহাব উদ্দিনের পুত্র কিশোর গ্যাং সদস্য শফিউল আলম, কোরবান আলীর পুত্র মোহাম্মদ আনিছ, মোহাম্মদ তারেক, মৃত শাহাব উদ্দিনের অপর পুত্র জয়নাল আবেদীন, আজিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো দেশীয় অস্ত্র কিরিচ ও হাতুড়ি দিয়ে কুপিয়ে তাদেরকে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে মনিরুল মোস্তফার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ভুক্তভোগী নুর মোহাম্মদ বলেন, আমার নিজের জায়গায় আমি বাড়ি নির্মাণ করছি। তারা এসে বলে বাড়ি করতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, না হলে বেজের গর্ত তাদের জায়গায় করতে হবে।
এমনকি আমার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রাখতে চায়। আমি তাদের চাঁদা না দিয়ে আমার জায়গায় বেজের গর্ত করায় তারা প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি দিচ্ছিল। আজ সকালে এই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে আমার পরিবারের উপর হামলা করে। আমার স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও আমার ছেলেকে ধারালো কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এইসব কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
হামলাকারীদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মুঠোফোনে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















