5:41 am, Monday, 9 November 2026

সুনামগঞ্জে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলছে দুই শতাধিক অবৈধ চুন কারখানা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রশাসনের নাকের ডগায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে ২০০টির বেশি অবৈধ চুন কারখানা। স্থানীয়ভাবে পাজু নামে পরিচিত এসব কারখানায় চুন তৈরিতে প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ কাঠ। ফলে আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাই, যা জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যকে হুমকিতে ফেলছে।

নদীর তীর কিংবা আঞ্চলিক মহাসড়ক। ছাতকের সব জায়গায়ই চোখে পড়ে অবৈধ চুনের কারখানা। ঐতিহ্যবাহী চুন শিল্পের নামে এসব ‘পাজু’ স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি তৈরি করছে। একেকটি পাজুতে চুন পোড়াতে লাগে প্রায় দেড় হাজার মণ কাঠ, ফলে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড।

পাজু থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন, ছাই ও গ্যাসের কারণে চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, চোখ ও ফুসফুসজনিত নানা জটিল রোগ।

সুনামগঞ্জের পরিবেশকর্মী এ কে কুদরত পাশা বলেন, ‘ভুলভাবে চুন পোড়ানোর কারণে ব্যাপক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হচ্ছে। একইসাথে কারখানার বর্জ্য মিশে দূষিত হচ্ছে জলাশয় ও মাটি।’

সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, ‘অবৈধ এসব কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। তবে এদের বিরুদ্ধে নোটিস জারির করা হয়েছে।’

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় অবিলম্বে সব অবৈধ চুন কারখানা বন্ধের দাবি সচেতন মহলের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

গোপনে বিয়ে করেছেন নিহা, কাবাঘরে জীবনসঙ্গীকে নিয়ে প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী

সুনামগঞ্জে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলছে দুই শতাধিক অবৈধ চুন কারখানা

Update Time : 02:10:41 am, Tuesday, 22 September 2026

সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রশাসনের নাকের ডগায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে ২০০টির বেশি অবৈধ চুন কারখানা। স্থানীয়ভাবে পাজু নামে পরিচিত এসব কারখানায় চুন তৈরিতে প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ কাঠ। ফলে আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাই, যা জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যকে হুমকিতে ফেলছে।

নদীর তীর কিংবা আঞ্চলিক মহাসড়ক। ছাতকের সব জায়গায়ই চোখে পড়ে অবৈধ চুনের কারখানা। ঐতিহ্যবাহী চুন শিল্পের নামে এসব ‘পাজু’ স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি তৈরি করছে। একেকটি পাজুতে চুন পোড়াতে লাগে প্রায় দেড় হাজার মণ কাঠ, ফলে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড।

পাজু থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন, ছাই ও গ্যাসের কারণে চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, চোখ ও ফুসফুসজনিত নানা জটিল রোগ।

সুনামগঞ্জের পরিবেশকর্মী এ কে কুদরত পাশা বলেন, ‘ভুলভাবে চুন পোড়ানোর কারণে ব্যাপক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হচ্ছে। একইসাথে কারখানার বর্জ্য মিশে দূষিত হচ্ছে জলাশয় ও মাটি।’

সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, ‘অবৈধ এসব কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। তবে এদের বিরুদ্ধে নোটিস জারির করা হয়েছে।’

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় অবিলম্বে সব অবৈধ চুন কারখানা বন্ধের দাবি সচেতন মহলের।