3:51 pm, Friday, 9 October 2026

মধুপুরে আকস্মিক ঝড়ে শত শত কৃষকের ফসল লন্ডভন্ড

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। কলাগাছে ধরেছিল কাঁদি, পেঁপে, বাগানে ছিল ফলন, আনারস ও সবজি খেতেও ছিল আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা। কিন্তু বুধবার দুপুরে মাত্র কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শত শত কৃষকের সেই স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

কোথাও সারি সারি কলাগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে, কোথাও উপড়ে গেছে ফলন্ত গাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজি বাগানও। হঠাৎ এমন ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিকভাবে ঝড় শুরু হয়। কয়েক মিনিটের তীব্র ঝড়ে অরনখোলা, শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের কলা, পেঁপে, আনারস ও সবজি বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় অনেক কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে। ফলন্ত কলাগাছ উপড়ে কিংবা হেলে পড়ায় কাঁদি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পেঁপে ও বিভিন্ন সবজি খেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের পর বিভিন্ন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পড়ে আছে ভাঙা ও উপড়ে যাওয়া কলাগাছ। অরনখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার কৃষক আজিজুল মিয়া প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে ৫০০টি কলাগাছ চাষ করেছেন।

এ চাষে তিনি একটি এনজিও থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। ঝড়ে তার বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অরনখোলা এলাকার শিক্ষক সাইফুল ইসলাম প্রায় ২৮ বিঘা জমিতে পাঁচ হাজার কলাগাছ চাষ করেছেন। ঝড়ে তার বাগানের সব কলাগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, ঝড়ের আগেই বাগানের কলা বিক্রির জন্য চুক্তি হয়েছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ক্রেতা জালাল উদ্দীনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত নেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে প্রতি কাঁদি ৪১০ টাকা দরে কলা বিক্রির কথা ছিল। অন্যদিকে মোতালেবের প্রায় দুই একর জমির পেঁপে ও কলাবাগানও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষকেরা বলছেন, একটি ফলন্ত কলাগাছ কিংবা পেঁপে গাছ নষ্ট হওয়া মানে শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ। অনেক কৃষক ধারদেনা ও এনজিও ঋণ নিয়ে বাগানে বিনিয়োগ করেছেন।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে মধুপুরে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০০ বিঘা কলাবাগান এবং ২০০ বিঘা পেঁপে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের বেশ কিছু কলাবাগান আগেই বিক্রি করা হয়েছিল এবং সেক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকাও নেওয়া হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী ক্রেতারা ধাপে ধাপে কলার কাঁদি কেটে নেওয়ার কথা ছিল। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাগানগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বাগান দ্রুত পরিদর্শন করে সরকারি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দেওয়া হলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

রাজধানীর ভাটারায় বহুতল ভবন থেকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মধুপুরে আকস্মিক ঝড়ে শত শত কৃষকের ফসল লন্ডভন্ড

Update Time : 12:29:09 am, Thursday, 8 October 2026

ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। কলাগাছে ধরেছিল কাঁদি, পেঁপে, বাগানে ছিল ফলন, আনারস ও সবজি খেতেও ছিল আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা। কিন্তু বুধবার দুপুরে মাত্র কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শত শত কৃষকের সেই স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

কোথাও সারি সারি কলাগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে, কোথাও উপড়ে গেছে ফলন্ত গাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজি বাগানও। হঠাৎ এমন ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিকভাবে ঝড় শুরু হয়। কয়েক মিনিটের তীব্র ঝড়ে অরনখোলা, শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের কলা, পেঁপে, আনারস ও সবজি বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় অনেক কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে। ফলন্ত কলাগাছ উপড়ে কিংবা হেলে পড়ায় কাঁদি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পেঁপে ও বিভিন্ন সবজি খেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের পর বিভিন্ন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পড়ে আছে ভাঙা ও উপড়ে যাওয়া কলাগাছ। অরনখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার কৃষক আজিজুল মিয়া প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে ৫০০টি কলাগাছ চাষ করেছেন।

এ চাষে তিনি একটি এনজিও থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। ঝড়ে তার বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অরনখোলা এলাকার শিক্ষক সাইফুল ইসলাম প্রায় ২৮ বিঘা জমিতে পাঁচ হাজার কলাগাছ চাষ করেছেন। ঝড়ে তার বাগানের সব কলাগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, ঝড়ের আগেই বাগানের কলা বিক্রির জন্য চুক্তি হয়েছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ক্রেতা জালাল উদ্দীনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত নেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে প্রতি কাঁদি ৪১০ টাকা দরে কলা বিক্রির কথা ছিল। অন্যদিকে মোতালেবের প্রায় দুই একর জমির পেঁপে ও কলাবাগানও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষকেরা বলছেন, একটি ফলন্ত কলাগাছ কিংবা পেঁপে গাছ নষ্ট হওয়া মানে শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ। অনেক কৃষক ধারদেনা ও এনজিও ঋণ নিয়ে বাগানে বিনিয়োগ করেছেন।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে মধুপুরে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০০ বিঘা কলাবাগান এবং ২০০ বিঘা পেঁপে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের বেশ কিছু কলাবাগান আগেই বিক্রি করা হয়েছিল এবং সেক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকাও নেওয়া হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী ক্রেতারা ধাপে ধাপে কলার কাঁদি কেটে নেওয়ার কথা ছিল। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাগানগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বাগান দ্রুত পরিদর্শন করে সরকারি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দেওয়া হলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।