4:03 am, Thursday, 8 October 2026

ডিজাইন ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে দেশজ সাংস্কৃতিক পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন সক্ষমতার জন্য বিশ্বে পরিচিত। এবার উৎপাদনের পাশাপাশি নিজস্ব নকশা, উদ্ভাবন ও পণ্য উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নয়, নিজস্ব ধারণা ও নকশা তৈরি করে বিশ্ববাজারে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য ‘৩ডি ইন বিডি—ডিসকভার, ডিজাইন, ডেভেলপ’ ধারণাকে বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ উইক ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের ১০০ জন ডিজাইনার এক প্ল্যাটফর্মে অংশ নেন। তাদের নকশা, সৃজনশীলতা, কারুশিল্প ও পণ্য উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকেরা বলছেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য শুধু ডিজাইনারদের কাজ প্রদর্শন নয়, বরং সৃজনশীলতাকে শিল্প, উৎপাদন ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘একটি ধারণা আবিষ্কার থেকে শুরু করে সেটিকে নকশায় রূপ দেওয়া এবং পরে পণ্যে পরিণত করার পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশেই শক্তিশালী করতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, মেধাস্বত্ব, ব্র্যান্ডিং ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে এ খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।’

তিনি স্থানীয় ঐতিহ্য ও সম্পদ কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ ধারণার মাধ্যমে গ্রামের নিজস্ব সম্পদ, কারুশিল্প, ঐতিহ্য ও স্থানীয় জ্ঞানকে আধুনিক নকশা ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রোকাইয়া আহমেদ পূর্ণা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে দেশটি উৎপাদন করতে পারে। এখন বাংলাদেশের নিজস্ব নকশা, ধারণা ও পণ্য উন্নয়নের সক্ষমতাও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধি ও কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি, ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ এস কে সাইফুর রহমান, লার্ন লাইটের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক অদিতি চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

পরে ‘ভিশন টুয়ার্ডস ডিজাইনড ইন বাংলাদেশ: বিল্ডিং আ গ্লোবাল ক্রিয়েটিভ এক্সপোর্ট ইকোনমি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও কার্যালয় প্রধান সুসান ভাইজসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

দিনের আয়োজনে বিভিন্ন ডিজাইনারের পোশাকের সংগ্রহ নিয়ে র‌্যাম্প শো অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুমায়রা আজবি জিনাস, নাফিসা তাসনিম জামানা ও হৃদিকা নুসরাত কুন্তলার সংগ্রহ প্রদর্শিত হয়।

দুই দিনের এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে ঐতিহ্য, ফ্যাশন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ডিজাইনার, কারিগর, উৎপাদক, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাজারকে যুক্ত করে একটি স্থায়ী সৃজনশীল অর্থনীতির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

আজ মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

ডিজাইন ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে দেশজ সাংস্কৃতিক পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

Update Time : 03:00:46 am, Thursday, 8 October 2026

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন সক্ষমতার জন্য বিশ্বে পরিচিত। এবার উৎপাদনের পাশাপাশি নিজস্ব নকশা, উদ্ভাবন ও পণ্য উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নয়, নিজস্ব ধারণা ও নকশা তৈরি করে বিশ্ববাজারে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য ‘৩ডি ইন বিডি—ডিসকভার, ডিজাইন, ডেভেলপ’ ধারণাকে বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ উইক ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের ১০০ জন ডিজাইনার এক প্ল্যাটফর্মে অংশ নেন। তাদের নকশা, সৃজনশীলতা, কারুশিল্প ও পণ্য উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকেরা বলছেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য শুধু ডিজাইনারদের কাজ প্রদর্শন নয়, বরং সৃজনশীলতাকে শিল্প, উৎপাদন ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘একটি ধারণা আবিষ্কার থেকে শুরু করে সেটিকে নকশায় রূপ দেওয়া এবং পরে পণ্যে পরিণত করার পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশেই শক্তিশালী করতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, মেধাস্বত্ব, ব্র্যান্ডিং ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে এ খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।’

তিনি স্থানীয় ঐতিহ্য ও সম্পদ কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ ধারণার মাধ্যমে গ্রামের নিজস্ব সম্পদ, কারুশিল্প, ঐতিহ্য ও স্থানীয় জ্ঞানকে আধুনিক নকশা ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রোকাইয়া আহমেদ পূর্ণা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে দেশটি উৎপাদন করতে পারে। এখন বাংলাদেশের নিজস্ব নকশা, ধারণা ও পণ্য উন্নয়নের সক্ষমতাও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধি ও কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি, ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ এস কে সাইফুর রহমান, লার্ন লাইটের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক অদিতি চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

পরে ‘ভিশন টুয়ার্ডস ডিজাইনড ইন বাংলাদেশ: বিল্ডিং আ গ্লোবাল ক্রিয়েটিভ এক্সপোর্ট ইকোনমি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও কার্যালয় প্রধান সুসান ভাইজসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

দিনের আয়োজনে বিভিন্ন ডিজাইনারের পোশাকের সংগ্রহ নিয়ে র‌্যাম্প শো অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুমায়রা আজবি জিনাস, নাফিসা তাসনিম জামানা ও হৃদিকা নুসরাত কুন্তলার সংগ্রহ প্রদর্শিত হয়।

দুই দিনের এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে ঐতিহ্য, ফ্যাশন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ডিজাইনার, কারিগর, উৎপাদক, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাজারকে যুক্ত করে একটি স্থায়ী সৃজনশীল অর্থনীতির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।