গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী নৌকা ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে। ব্যস্ত নগরজীবনের একঘেয়েমি দূর করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই ভ্রমণে এলাকার মুরুব্বিরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাইমাইল হরিণতলা এলাকা থেকে নৌকা ভ্রমণটি শুরু হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ভ্রমণ দিনব্যাপী তুরাগ নদের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। নদীর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, নির্মল বাতাস এবং নৌযাত্রার আনন্দে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নৌকা ভ্রমণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বাইমাইল হরিণতলা এলাকায় ছিল প্রাণচাঞ্চল্য।
নির্ধারিত সময়ে সবাই নৌকায় উঠে যাত্রা শুরু করেন। নৌকায় বসে গল্প, আড্ডা, হাসি-আনন্দ ও বিভিন্ন স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে সময় কাটান মুরুব্বিরা। দীর্ঘদিনের পরিচিতজনদের পাশাপাশি অনেকের সঙ্গে নতুন করে আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মো. রমিজ উদ্দিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমী নৌকা ভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিম উদ্দিন, আবুল হোসেন তপন, মোশাররফ হোসেন মাসুদ, আইনউদ্দিন সরকার, ফিরুজ আল মামুন, নাজমুল আলমসহ এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বিরা।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে মানুষ নানা ব্যস্ততায় একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কম পাচ্ছেন। বিশেষ করে এলাকার প্রবীণ ও মুরুব্বিদের জন্য এমন আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই চিন্তা থেকেই এ নৌকা ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী নৌকা ভ্রমণে অংশ নেওয়া মুরুব্বিরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সত্যিই ব্যতিক্রমী।
দীর্ঘদিন পর সবাই একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। তুরাগ নদের মনোরম পরিবেশে নৌকা ভ্রমণের পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়, গল্প-আড্ডা ও স্মৃতিচারণ করতে পেরে তারা আনন্দিত। তারা আরও বলেন, শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এ ধরনের আয়োজন সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বাড়াতে নিয়মিত এমন আয়োজন করা প্রয়োজন।
নৌকা ভ্রমণটি দিনব্যাপী আনন্দ, আড্ডা ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়। তুরাগ নদের দুই তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একসঙ্গে সময় কাটানোর এ আয়োজন তাদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে বলেও জানান অংশগ্রহণকারীরা। স্থানীয়রা জানান, এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
সমাজের প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তিদের একত্রিত করে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আয়োজক মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে একটি আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সময় কাটানোর উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কিছুটা সময় আনন্দ ও আড্ডায় কাটাতে পেরে তিনি আনন্দিত।
ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সম্প্রীতিমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। দিনশেষে আনন্দঘন পরিবেশে নৌকা ভ্রমণ শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা এ আয়োজনের জন্য আয়োজক মো. রমিজ উদ্দিনকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।





















