11:24 am, Friday, 28 August 2026

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা ও মরদেহ ১৫ টুকরো করার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস সিপাহি রাকিব রায়হান (৪০) হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাকিবকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ পান করান। এতে রাকিব রায়হান ঘুমিয়ে পড়লে মাথায় রড় দিয়ে আঘাতে হত্যার পর টয়লেটে নিয়ে মাংস কাটার খাটিয়ায় মরদেহ ১৫ টুকরা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সোয়াইতপুর গ্রামের ফজলুল হক মির্জার ছেলে রাজু মির্জা (২২) ও অনন্তপুর গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)। এদের মধ্যে রাজু মির্জা নিহত রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেখানো তথ্যমতে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, রড, তিনটি ছুরি, মাংস কাটার খাটিয়া, রক্তমাখা পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়। ওই দিন রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে এদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রাকিব সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে গিয়ে শনিবার কর্মস্থলে যেতেন। এরই মধ্যে গত ২৪ জুলাই তিনি নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর ২৭ জুলাই তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে গত ২ আগস্ট এনায়েতপুর গ্রামে পরিত্যক্ত খাল থেকে তিনটি ব্যাগে রাকিবের ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত রাকিবের ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৪ আগস্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রায় এক মাস পর হত্যায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধান আসামি রাজু মির্জা চার বছর ধরে রাকিবের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার রাতে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হত্যা ও ঘরে থাকা নগদ অর্থ মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেয়। তিনি বলেন, পরে মরদেহ গুম করার জন্য অপর আসামি সোহেলের সহযোগিতায় মরদেহ ১৫ টুকরা করে বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ভাঙ্গুড়ায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা ও মরদেহ ১৫ টুকরো করার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই

Update Time : 08:41:32 am, Friday, 28 August 2026

ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস সিপাহি রাকিব রায়হান (৪০) হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাকিবকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ পান করান। এতে রাকিব রায়হান ঘুমিয়ে পড়লে মাথায় রড় দিয়ে আঘাতে হত্যার পর টয়লেটে নিয়ে মাংস কাটার খাটিয়ায় মরদেহ ১৫ টুকরা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সোয়াইতপুর গ্রামের ফজলুল হক মির্জার ছেলে রাজু মির্জা (২২) ও অনন্তপুর গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)। এদের মধ্যে রাজু মির্জা নিহত রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেখানো তথ্যমতে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, রড, তিনটি ছুরি, মাংস কাটার খাটিয়া, রক্তমাখা পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়। ওই দিন রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে এদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রাকিব সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে গিয়ে শনিবার কর্মস্থলে যেতেন। এরই মধ্যে গত ২৪ জুলাই তিনি নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর ২৭ জুলাই তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে গত ২ আগস্ট এনায়েতপুর গ্রামে পরিত্যক্ত খাল থেকে তিনটি ব্যাগে রাকিবের ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত রাকিবের ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৪ আগস্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রায় এক মাস পর হত্যায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধান আসামি রাজু মির্জা চার বছর ধরে রাকিবের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার রাতে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হত্যা ও ঘরে থাকা নগদ অর্থ মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেয়। তিনি বলেন, পরে মরদেহ গুম করার জন্য অপর আসামি সোহেলের সহযোগিতায় মরদেহ ১৫ টুকরা করে বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।