3:13 pm, Friday, 28 August 2026

গলা সমান পানিতে নেমে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করলেন এমপি, ভাসছেন প্রশংসায়

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে নিজেই গলা সমান পানিতে নামলেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। এমপির এমন কাজ দেখে উৎসাহিত হয়ে স্থানীয়রাও পানিতে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেন।

এই খাল পরিষ্কার করায় শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। এমন কাজে প্রশংসায় ভাসছেন এমপি মুহাম্মদুল্লাহ। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খালের গলা পানিতে নেমে নিজেই কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজের নেতৃত্ব দেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিল থেকে পঙ্গুয়াই খাল হয়ে পানি নেমে যেত কাকনী খালে; এরপর সেই পানি দিয়ারা নদীতে গিয়ে পড়ত।

তবে কাকনী এলাকায় খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি নিজেদের দাবি করে স্থানীয় কিছু লোক তা আটকে দেওয়ায় গত ৭-৮ বছর ধরে পানির প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত কচুরিপানা জমে ডিমুর বিল-সংলগ্ন পঙ্গুয়াই খালে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাঁকনী—এই ৯টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের বহু ফসলি জমি ও বাড়িঘর পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকত। আজ এমপি সাহেব নিজে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করায় এই সংকটের দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি। আজ খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করায় আশপাশের পানি খালে নামতে শুরু করেছে। খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে থাকা বর্ষাকাল আশীর্বাদে পরিণত হবে বলে জানান একই গ্রামের মুশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কথা সংসদ সদস্যকে জানানোর পর তিনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আজ তিনি নিজে এসে এলাকার মানুষকে উৎসাহিত করে খাল পরিষ্কারে নেমে পড়েন। সংসদ সদস্যকে নিজে পানিতে নামতে দেখে এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এ সময় সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, খাল খনন সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প।

একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি ছিল এই খালগুলো। কিন্তু বর্তমানে এগুলো বেদখল, ভরাট ও কচুরিপানার স্তূপে নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খালগুলো সচল করা গেলে তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেগবান করবে। এ সময় গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য ঘোষণা দেন, খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানকার জমি তিনি নিজ খরচে ক্রয় করে দেবেন।

এরপর খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে খালের পূর্ণাঙ্গ নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ভাঙ্গুড়ায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান

গলা সমান পানিতে নেমে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করলেন এমপি, ভাসছেন প্রশংসায়

Update Time : 11:26:44 am, Thursday, 27 August 2026

জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে নিজেই গলা সমান পানিতে নামলেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। এমপির এমন কাজ দেখে উৎসাহিত হয়ে স্থানীয়রাও পানিতে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেন।

এই খাল পরিষ্কার করায় শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। এমন কাজে প্রশংসায় ভাসছেন এমপি মুহাম্মদুল্লাহ। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খালের গলা পানিতে নেমে নিজেই কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজের নেতৃত্ব দেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিল থেকে পঙ্গুয়াই খাল হয়ে পানি নেমে যেত কাকনী খালে; এরপর সেই পানি দিয়ারা নদীতে গিয়ে পড়ত।

তবে কাকনী এলাকায় খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি নিজেদের দাবি করে স্থানীয় কিছু লোক তা আটকে দেওয়ায় গত ৭-৮ বছর ধরে পানির প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত কচুরিপানা জমে ডিমুর বিল-সংলগ্ন পঙ্গুয়াই খালে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাঁকনী—এই ৯টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের বহু ফসলি জমি ও বাড়িঘর পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকত। আজ এমপি সাহেব নিজে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করায় এই সংকটের দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি। আজ খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করায় আশপাশের পানি খালে নামতে শুরু করেছে। খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে থাকা বর্ষাকাল আশীর্বাদে পরিণত হবে বলে জানান একই গ্রামের মুশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কথা সংসদ সদস্যকে জানানোর পর তিনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আজ তিনি নিজে এসে এলাকার মানুষকে উৎসাহিত করে খাল পরিষ্কারে নেমে পড়েন। সংসদ সদস্যকে নিজে পানিতে নামতে দেখে এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এ সময় সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, খাল খনন সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প।

একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি ছিল এই খালগুলো। কিন্তু বর্তমানে এগুলো বেদখল, ভরাট ও কচুরিপানার স্তূপে নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খালগুলো সচল করা গেলে তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেগবান করবে। এ সময় গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য ঘোষণা দেন, খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানকার জমি তিনি নিজ খরচে ক্রয় করে দেবেন।

এরপর খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে খালের পূর্ণাঙ্গ নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে।